তুরস্ক ও গ্রিস উপকূলে শরণার্থীবাহী নৌকাডুবি, নি(হত) অন্তত ১৬

টুইট ডেস্ক: তুরস্ক ও গ্রিস উপকূলে শরণার্থীদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নৌকা দুটিতে ৬০ জনেরও বেশি আরোহী ছিলেন।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নৌকা দুটি ডুবে গেলে প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তুরস্ক এবং গ্রীক দ্বীপ লেসবোসের মধ্যবর্তী সমুদ্রের সংকীর্ণ অংশে শরণার্থী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রায় ৬৬ জনকে বহনকারী এই দুটি নৌকা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ডুবে যায়। অবশ্য নৌকাডুবির বিষয়ে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ অন্য দেশের উদ্ধার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত ছিল না।

গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাদের একটি টহল নৌকা প্রায় পাঁচ মিটার (৫.৫ গজ) লম্বা একটি ছোট ডিঙ্গিকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় এবং মোট ৩১ জন যাত্রীর মধ্যে ২৩ জনকে- ১১ জন নাবালক, আটজন পুরুষ এবং চারজন নারী- উদ্ধার করেছে।

কর্তৃপক্ষ পরে হেলিকপ্টার, কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং ফ্রন্টেক্স ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থাসহ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পর সাতজনের- তিনজন নারী, দুইজন ছেলে, এক মেয়ে এবং একজন পুরুষ- মৃতদেহ উদ্ধার করে।

গ্রীক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও অল্পবয়সী এক মেয়ের সন্ধান করছে। দুর্ঘটনায় ওই মেয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জীবিতরা জানিয়েছেন।

বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে একজনকে- যার পরিচয় শুধুমাত্র ২০ বছর বয়সী একজন পুরুষ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে- মানব পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ অন্যান্য যাত্রীরা তাকে ডিঙ্গি চালক হিসেবে শনাক্ত করেছে বলেও কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

পৃথকভাবে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কানাক্কালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে একটি নৌকা থেকে সাহায্যের জন্য জরুরি কল পেয়েছিল উপকূলরক্ষীরা। পরে তিনটি নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার পাঠানোর পর তারা ২৫ জনকে উদ্ধার করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসময় ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তুর্কি মিডিয়া জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়াদের তুরস্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তুরস্কের উপকূল এবং নিকটবর্তী গ্রীক দ্বীপপুঞ্জ সামোস, রোডস এবং লেসবোসের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ কিন্তু বিপজ্জনক পথে নৌযানডুবির ঘটনা খুবই সাধারণ। মূলত সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের পথ হিসেবে কাজ করে এই রুটটি।

গ্রীক সরকার সমুদ্রে টহল বৃদ্ধির মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অনেক চোরাচালানকারী চক্র তাদের কার্যক্রম আরও দক্ষিণের দিকে স্থানান্তরিত করেছে। মূলত আফ্রিকার উত্তর উপকূল থেকে দক্ষিণ গ্রীসে অবৈধভাবে মানুষ পরিবহনের জন্য বৃহত্তর নৌকা ব্যবহার করছে চোরাচালানকারী চক্র।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছর ৫৪ হাজারেরও বেশি মানুষ পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করে গ্রিসে প্রবেশ করেছে এবং ৭ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ তুরস্কের সাথে গ্রিসের ছোট স্থল সীমান্ত অতিক্রম করেছে।

বিপজ্জনক এই পারাপারে মোট ১২৫ জন নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।