পুলিশের লুট হওয়া দেড় হাজার অ(স্ত্র) এখনো অপরাধীর হাতে
টুইট ডেস্ক: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া প্রায় দেড় হাজার আগ্নেয়াস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেছে, অপরাধেও ব্যবহূত হচ্ছে।
এছাড়া গণভবনের দায়িত্বে থাকা এসএসএফ সদস্যদের লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ ৩২টি ভারী অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে অভ্যুত্থানের সময় জেল ভেঙে পালানো ২৭ জঙ্গি রয়েছেন অধরা।
গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বিক্ষোভের সময় কারারক্ষীদের জিম্মি করে ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যান। বন্দি পালানো ঠেকাতে গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। এতে ছয় জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন জঙ্গিও ছিলেন। তিন জনই গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি করে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানো জঙ্গিদের মধ্যে ২৭ জনকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, জেলখানা থেকে পালানো ৯৮ জঙ্গির ৭০ জনই সাজাপ্রাপ্ত, যাদের বেশির ভাগকে ফের গ্রেফতার করা হলেও ২৭ জন এখনো অধরা থেকে গেছেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের নানান স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (স্মল মেশিনগান), এলএমজি (লাইট মেশিনগান), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন বোরের গুলি। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে গত ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হয়। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, এই অভিযানে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৫৬টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো ১ হাজার ৪১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা যায়নি।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে শাহিদা আক্তার (২২) নামের এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহিদার ‘প্রেমিক’ তৌহিদ শেখ ওরফে তন্ময়কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বলছে, তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঢাকার ওয়ারী থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করেন তৌহিদ। তার তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহূত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। ৫ ডিসেম্বর দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের শিশুপার্কের পেছনের নালা পরিষ্কার করার সময় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী একটি শটগান, ছয়টি গুলি ও একটি গুলির খোসা পান। কুষ্টিয়া মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে এগুলো নিয়ে যায়। কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ‘শটগান-গুলি কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের। এটি লুট হয়েছিল।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ সারা দেশে ৪৬০টি থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১৪টি থানা-ফাঁড়িতে। এর মধ্যে শুধু আগুন দেওয়া হয়েছে ৫৮টিতে। ঢাকা মহানগরে ১৩টি থানা আক্রান্ত হয়েছে। আন্দোলনের সময় সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪ পুলিশ।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২০০ আসামি পালান। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনো ৭০০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে জঙ্গি, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৭০ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন জঙ্গি।
এদিকে গণভবনের দায়িত্বে থাকা এসএসএফ সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজসরঞ্জাম, বেতার যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদির মজুত ছিল। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনেও এসএসএফের অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুত ছিল। ৫ আগস্ট জনতা গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করার পর সব অস্ত্র লুট হয়ে যায়। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ ৩২টি ভারী অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। থানা ও সরকারি স্থাপনার বাইরে ব্যক্তিগত অস্ত্র লুটের ঘটনাও।