বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ-ই বিজয়ী হয় না : ইউরোপীয় ইউনিয়ন

টুইট ডেস্ক: বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। কোন দেশের ওপর কত হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ হবে, সংবাদ সম্মেলনে তার একটি তালিকাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব নেতাদের অনেকেই। প্রতিক্রিয়া এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকেও। ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না।

এমনকি এই শুল্ক ভোক্তাদের জন্য পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান বলেছেন, “বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না”। পোল্যান্ডে ব্লকটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের আগে কাজা কালাস বলেন, “এটা স্পষ্ট যে— এই সমস্ত শুল্ক ভোক্তাদের জন্য দাম বাড়িয়ে দেবে।”

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এখন বিবেচনা করতে হবে কিভাবে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা যায়। তিনি বলেন, “আমরা এখন আমেরিকানদের কাছ থেকে অনেক কিছু কিনছি, কিন্তু আমাদের পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করতে হবে যাতে আমাদের এখানে উৎপাদন করার সক্ষমতা থাকে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের অর্ধেকেরও বেশি গোলাবারুদ সরবরাহ করছে, তবে এ বিষয়ে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কাজা কালাস বলেন, “এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে, … আমাদের যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেনে সাহায্য পৌঁছাতে হবে।”

কালাস আরও বলেন, তিনি আশা করেন— বৃহস্পতিবারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে দেশগুলো ইউক্রেনের জন্য আরও স্বল্পমেয়াদী সাহায্য ঘোষণা করবে। তার ভাষায়, “কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে যে যত শক্তিশালী, আলোচনার টেবিলেও তারা তত শক্তিশালী।”

প্রসঙ্গত, অনেক দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তকে “বাণিজ্য যুদ্ধ” হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আবার অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে তাতে কেউ-ই জয়ী হবে না।

তবে ট্রাম্পের যুক্তি, নতুন এই “রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ” বা পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে “আবার সম্পদশালী” করবে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রায় ১০০টি দেশের ওপর আরোপ করা এই শুল্ক বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।