বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দাবি ‘অতিরঞ্জিত’: তদন্তের ফলাফল

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিতর্ক

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সম্প্রতি দাবি করেছে যে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১,৭৬৯টি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

তবে, পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে যে, এই অভিযোগগুলোর মধ্যে ১,২৩৪টি ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ২০টি সাম্প্রদায়িক, এবং ১৬১টি অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১,৭৬৯টি অভিযোগের মধ্যে ৬২টি মামলার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে অন্তত ৩৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় শূন্য সহিষ্ণু নীতি গ্রহণ করেছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ এলে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি ফোকাল পয়েন্ট সেই অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।

সরকার ইতোমধ্যে এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর জন্য নিন্দা ও সমালোচনা

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সম্প্রতি ১,৭৬৯টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপন করেছিল, যার মধ্যে পুলিশের তদন্তে ১৬১টি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে বি‌ভিন্ন মহল হ‌তে।

মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বারবার অসত্য তথ্য পরিবেশন করছে।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, ১৬১টি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার নামে এমন ভুল তথ্য উপস্থাপন শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কঠিন করে তোলে।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধের দাবি

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বারবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে, যা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রকৃত সত্য উন্মোচন না করে, ভুল তথ্যের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অথচ, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে চায়।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ব‌লে ঝড় উঠে‌ছে সোশ্যাল, মি‌ডিয়াগু‌লো‌তে, যাতে দেশবিরোধী অপপ্রচার রুখে দেওয়া যায়।