গাজায় ইসরায়েলি হা(মলায়) নারী-শিশুসহ নি’হত ৩৭

টুইট ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুরাও। একই সঙ্গে সিরিয়াতেও ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গাজার চিকিৎসকদের বরাতে আল জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বহু শিশু ও নারী রয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ১৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০৪ জন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের মতে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকেও মৃত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশু নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ২৭০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়।

সংস্থাটির গাজা পরিচালক র‌্যাচেল কামিংস বলেন, বোমা ঝরছে, হাসপাতাল ধ্বংস হচ্ছে, শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে-কিন্তু বিশ্ব নীরব। কোনও সহায়তা নেই, কোনও নিরাপত্তা নেই, কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

গাজার পাশাপাশি সিরিয়াতেও ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির ডেরা প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার ও সৌদি আরব।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণ থামছে না। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে হুথিদের অবস্থানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হুথি-সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, সাহার জেলায় মার্কিন বাহিনী নতুন করে দুটি অভিযান চালিয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে ইয়েমেনে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন বাহিনীর এ আক্রমণ তীব্র হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত আরও কত প্রাণ কেড়ে নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।