উসকানিতে প্রভাবিত না হতে সেনাপ্রধানের আহ্বান
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের উসকানিতে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন সেনা স্থাপনায় কর্মরত কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান
আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত আয়োজন। এ প্রসঙ্গে এক সূত্র জানায়, সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন এবং তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রমজানে অনেক সেনাসদস্য ক্যাম্পের বাইরে ইফতার করলেও দায়িত্ব পালনে কোনো শিথিলতা আসেনি। সেনাবাহিনী ধৈর্যশীল ও পেশাদার, যা বিভিন্ন উসকানির মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে।”
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা
সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী শুধু অস্ত্রের শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং নৈতিকতা, প্রজ্ঞা ও সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করে। তিনি বলেন, “আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণভাবে সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া।”
এ ছাড়া, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের বিষয়ে সেনাসদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না, উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না, এতে উসকানিদাতারাই লাভবান হবে।”
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তা
জাতিসংঘ মহাসচিব সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে অসাধারণ অবদানের প্রশংসা করেছেন বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতারও স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।”
তিনি উগ্রপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “উগ্রপন্থীরা যাতে কোনো অস্বাভাবিক কিছু করার চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
একই সঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে দেশকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করতে পারবে না।”
অপরাধ প্রতিরোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “অপরাধের হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় একই থাকলেও দৃশ্যমান অপরাধ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাই এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বলেন, সেনাবাহিনী তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিচ্ছে এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানেও কাজ করছে।
এ ছাড়া, দশম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জন্য বিশাল ইফতারের আয়োজন করেছে, যা মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতির অংশ।