কেসিসির সাবেক মেয়র খালেক ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও তার স্ত্রী বাগেরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৪ মার্চ) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার এই আদেশ দেন।

৮ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ

দুদক খুলনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ জানান, তালুকদার আবদুল খালেক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানে তাদের নামে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকসহ খুলনার ব্যাংকগুলোতে মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার টাকা জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়ে যদি এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অর্থ তুলে নিতে পারেন। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন।

কোন ব্যাংকে কত টাকা আছে?

দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম জানান, তালুকদার আবদুল খালেকের নামে আইএফআইসি ব্যাংকের খুলনা শাখায় ৫ কোটি টাকা এবং এনসিসি ব্যাংকে ৬৫ লাখ টাকার দুটি এফডিআরসহ মোট ৬ কোটি ২৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা রয়েছে।

হাবিবুন নাহারের নামে ৩টি সঞ্চয়পত্র ও দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জমা আছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

দুদক সূত্র জানায়, তালুকদার আবদুল খালেক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও সম্পদ জব্দ করা হতে পারে।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ

এর আগেও খুলনার স্থানীয় রাজনীতিতে তালুকদার আবদুল খালেক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দুদকের তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।