সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ: হাসনাত আবদুল্লাহ
টুইট ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চল সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনাকে ‘রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন সূচনা বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ১১ মার্চ তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি মনে করেন, এই আলোচনা চলমান রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি বলেন,
“রাজনীতি রাজনীতিবিদরাই নির্ধারণ করবেন। পরবর্তী রাজনীতি কোন দিকে যাবে, সেটি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর ফরমাল ও ইনফরমাল বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে ১১ মার্চের মিটিংয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল, যেখানে অপরপ্রান্তের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। ওই মিটিংয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য তাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, “রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে প্রস্তাব বা হস্তক্ষেপের এখতিয়ার সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। এ ধরনের চর্চা যাতে বাংলাদেশে আর না হয়।”
এই ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনসিপির নেতাদের বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো রাজনীতিবিদদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত এবং এতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনসিপির আলোচনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।