নেত্রকোণায় মায়ের চিৎকারে রক্ষা পেল শিশু: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে নিপীড়নের চেষ্টা

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা,  বখাটের বাড়িতে তালা

টুইট ডেস্ক: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের স্বল্প মাইজহাটি গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রতি যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক বখাটের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবকের নাম হবিকুল ইসলাম, সে হারুন অর রশিদের ছেলে।

গত শনিবার (৮ মার্চ) ইফতারের পর মেয়েটি বাথরুমে যাওয়ার সময় হবিকুল তার মুখ চেপে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকারে তার মা ছুটে এসে বাধা দিলে হবিকুল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার (১০ মার্চ) বিকেলে তারা মিছিল নিয়ে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “শিশুটির শ্লীলতাহানির চেষ্টার খবর পেয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতিবাদস্বরূপ অভিযুক্তের বাড়িতে তালা দিয়েছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এ ধরনের অপরাধী সমাজের জন্য হুমকি। তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিশুদের প্রতি নিপীড়নের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সমাজে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে।

আইনি ব্যবস্থা ও সুপারিশ

সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

প্রশিক্ষণ: শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল ও যৌন হয়রানি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

আইনি ব্যবস্থা: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

সামাজিক প্রতিরোধ: এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সমাজকে রক্ষা করতে হলে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ ও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপা‌শি-

১. দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা।
২. শিশুর পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া।
৩. স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হ‌বে।

এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি। অন্যথায়, অপরাধীরা বারবার এমন ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাবে। সমাজকে রক্ষা করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।