২০১৩ সাল ছিল আ.লীগের হত্যার মহোৎসব: প্রেস সচিব
টুইট ডেস্ক: ২০১৩ সালকে “আওয়ামী লীগের গুম ও খুনের মহোৎসব” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলমের বক্তব্য
প্রেস সচিব বলেন, “পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই হত্যা ও নির্যাতনের রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কৌশল নিয়েছে। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের ‘জঙ্গিবাদবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল। প্রকৃতপক্ষে, ভিন্নমত দমনের জন্যই সেই সময় ব্যাপক গুম-খুন চালানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে ২০১৩ সাল ছিল আওয়ামী লীগের গুম ও খুনের এক মহোৎসব।”
শফিকুল আলম শাপলা চত্বরে সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “সেদিন রাতভর হাসপাতালগুলোতে গুলিবিদ্ধ বহু মানুষের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সরকার তা কখনো স্বীকার করেনি। কতজন নিহত হয়েছিলেন, তার সঠিক তথ্য আজও আমাদের কাছে নেই।”
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ শাপলা চত্বরে যৌথবাহিনীর অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “৫ মে রাত ৩টার দিকে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের অভিযানের আগে আশপাশের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অন্ধকারে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যেই সমাবেশস্থল দখল করা হয়। এরপর দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হাজার হাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ওলামায়ে কেরামকে হত্যা করা হয়। অনেকের লাশ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাকে তুলে সরিয়ে ফেলা হয়।”
নিষ্পত্তির দাবিতে ৫ দফা সুপারিশ
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য ৫ দফা সুপারিশ পেশ করেছে—
১. শাপলা চত্বরে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে তদন্ত কমিশন গঠন।
২. হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা।
৩. নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ।
৪. জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তদন্ত ও রিপোর্ট প্রকাশ।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ছায়া সংসদে বিতর্ক প্রতিযোগিতা
ছায়া সংসদের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় “ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে”—বিষয়ক বিতর্কে তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসা বিজয়ী হয়।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এসএম মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মিশন এবং সাংবাদিক সাইদুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।