রাজশাহীতে ডাকাতি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫:
রাজশাহী নগরীতে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের নেতা ডাকু আউয়ালসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, চারটি মানিব্যাগ, নগদ ১,৬৪৫ টাকা, একটি ধারালো টিপ চাকু, একটি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র্যাব-৫ অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ডাকাত দলের নেতা-আব্দুল আউয়াল ওরফে ডাকু আউয়াল (হোসনিগঞ্জ, বোয়ালিয়া মডেল থানা), তার সহযোগী, সম্রাট (দামকুড়া থানা), ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্যরা, জিসান হোসেন (রাণীনগর মোন্নাফের মোড়), নাইম ইসলাম (পাঠানপাড়া), শরিফুল ইসলাম ওরফে সনি, শান্ত ইসলাম (আসাম কলোনি, চন্দ্রিমা থানা), শাকিল খান (মেহেরচন্ডী কড়ইতলা), মাইন হোসেন আলিফ (কাজলা, মতিহার থানা), আকাশ হোসেন (কাঁঠালবাড়িয়া, কাশিয়াডাঙ্গা থানা), জীবন ইসলাম (গোবিন্দপুর, কাঁঠালবাড়িয়া), সোহাগ আলী (চকমোক্তারপুর, চারঘাট) ।
ডাকু আউয়াল ও সম্রাটের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাই মামলা রয়েছে।
জীবন ইসলাম কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য এবং বাকিরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক, ছিনতাই ও চুরির মামলা রয়েছে এবং তারা নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজশাহী নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাব-৫ দিন-রাত টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই অভিযানে র্যাব-৫ এর একটি বিশেষ দল রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। এরপর একাধিক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরাধীদের স্বীকারোক্তি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা স্বীকার করেছে যে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাজশাহী নগরীতে বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন ছিল। র্যাবের এই অভিযানের পর নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অনেকেই মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কঠোর পদক্ষেপে নগরীতে অপরাধ কমবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা র্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছি। ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
রাজশাহীতে র্যাবের বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চক্রের পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।