বিএনপি’র বর্ধিত সভা বৃহস্পতিবার: ছয়টি উপ-কমিটি গঠন
বদিউল আলম লিংকন: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে সকাল ৯টায় এই সভা শুরু হবে।
এতে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ জেলা, উপজেলা, মহানগর ও থানার সভাপতি/আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবরা অংশগ্রহণ করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বর্ধিত সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। বিএনপি’র নেতারা দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বর্ধিত সভাকে বিএনপি’র নির্বাচনমুখী কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্ধিত সভার গুরুত্ব ও প্রস্তুতি
প্রায় ৪ হাজার নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় আগামী নির্বাচন ও আন্দোলন প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সভা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন, যা সাংগঠনিক ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।
বর্ধিত সভা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে:
ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি – আহ্বায়ক: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
অভ্যর্থনা কমিটি – আহ্বায়ক: হাবিব উন নবী খান সোহেল
আপ্যায়ন কমিটি – আহ্বায়ক: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
শৃঙ্খলা কমিটি – আহ্বায়ক: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
মিডিয়া কমিটি – আহ্বায়ক: মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল
চিকিৎসা সেবা কমিটি – আহ্বায়ক: ডা. রফিকুল ইসলাম
বর্ধিত সভার পূর্ব প্রস্তুতি
সভা সফল করতে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ বিকেলে এলডি হল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সভার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং আগামীকাল সকাল ১০টায় সভা শুরু হবে। অংশগ্রহণকারীদের খাবার, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি ফিল্ড হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির ঘোষণা আসতে পারে
বর্ধিত সভায় বিএনপি’র পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও বিএনপি সেটিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। রমজান ও ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হবে।
তারেক রহমানের ভার্চুয়াল সংযোগ ও দিকনির্দেশনা
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সভায় তৃণমূল নেতাদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিশ্বাস করেন, দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামোই আগামী নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি
সভায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ডা. রফিকুল ইসলাম, মীর সরাফত আলী সপু, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তাইফুল ইসলাম টিপু, আমিরুল ইসলাম আলিম, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, আতিকুর রহমান রুমন, বেবী নাজনীন, তানভীর আহমেদ রবিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত থাকবেন।
বর্ধিত সভার মাধ্যমে সাংগঠনিক পুনর্জাগরণ
বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে, ৫ আগস্টের পর থেকে দলটি দেশব্যাপী সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চাই। এই বর্ধিত সভার মাধ্যমে বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য সুসংগঠিত ও প্রস্তুত হবে।’
বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্যও আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পাঁচদিন আগে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল, যা তাড়াহুড়ো করে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতেই বিএনপি এই বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে।
সবমিলিয়ে, এই বর্ধিত সভা বিএনপি’র রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।